শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

বিমানবন্দরে নিরাপত্তার মান

বিভিন্ন ঘটনায় আমাদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার মান নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। খবরে প্রকাশ, দায়িত্বরতদের অবহেলা এবং অনভিজ্ঞতার কারণে থেমে গেছে সেখানকার অপরাধী গ্রেফতার ও চোরাচালান পণ্য উদ্ধার কার্যক্রম। গত তিন মাসে এ সংক্রান্ত সাফল্য নেই বললেই চলে। বেড়েছে লাগেজ কাটা পার্টির তৎপরতা। আর এ অবস্থা তৈরি হয়েছে এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স এবং এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে। সূত্রমতে, গত ৫ আগস্ট বিগত সরকারের পতনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিমানবন্দর থেকে তাদের কার্যক্রম অনেকটা গুঁটিয়ে নেয় এপিবিএন। এমন প্রেক্ষাপটে বিমানবাহিনী থেকে পাঁচ শতাধিক জনবল নিয়োজিত করা হয় সেখানে। পরে ১১ আগস্ট এপিবিএন সদস্যরা দায়িত্ব পালন করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন। গত ২৮ অক্টোবর গভীর রাতে অ্যাপ্রোন এলাকায় এপিবিএনের অফিসটি দখল করে এভসেক সদস্যরা।

এক সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রেটিং ছিল থার্ড ক্যাটাগরিতে। ওই সময় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। অবাধ চোরাকারবার সংক্রান্ত অভিযোগ ছিল। যাত্রী হয়রানি ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। পার্কিংয়ে ছিল না কোনও শৃঙ্খলা। পরিবহন শ্রমিকদের দৌরাত্ম্যও ছিল চরমে। এমন পরিস্থিতিতে ২০১০ সালের à§§ জুন বিমানবন্দরে নিরাপত্তার কাজ শুরু করে এপিবিএন। গত à§« আগস্টের পর দুটি সরকারি সংস্থার বিরোধের কারণে এয়ারপোর্টের টার্মিনাল ভবন ও এয়ারসাইড অংশে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না এপিবিএনের ৬০০ সদস্য। গত তিন মাস ধরে তারা বসে বসেই বেতন নিচ্ছেন। অপরদিকে এপিবিএনের বিকল্প হিসাবে যাদের দিয়ে দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে, তাদের পেছনে গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ। সিভিল এভিয়েশন চেয়ারম্যান অবশ্য বলেছেন, নিরাপত্তাজনিত কোনও সমস্যা বিমানবন্দরে নেই। পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন। অনাকাক্সিক্ষত কিছু বিষয় ছাড়া কারও সঙ্গে কোনও ঝামেলাও হচ্ছে না। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বিঘিœà¦¤ হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। এমন স্পর্শকাতর এলাকায় কোনও অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটাও গ্রহণযোগ্য নয়। এ ব্যাপারে নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীকেই  দায়িত্ব পালনে গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায়, দেশে-বিদেশে নেতিবাচক বার্তা যাবে। ভুলে গেলে চলবে না, এর আগেও বিমানবন্দরের অপ্রতুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বহিরাগতের অবাধ প্রবেশের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ থেকে কোনও পণ্য নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল অস্ট্রেলিয়াসহ আরও বেশকিছু বিদেশি এয়ারলাইন্স ও এয়ার ফ্রেইট। স্বাভাবিকভাবেই বিমানবন্দরের নিরাপত্তার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হওয়া উচিত। অন্যথায় বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হবে। দায়িত্বে নিয়োজিত সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দিকটি সারাবিশ্ব সুখ্যাতি লাভ করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ